ভালো মানের সিভি কীভাবে লিখবেন

ভালো সিভি তৈরি করা চাকরি প্রাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নিয়োগকারীর নজরে আসার প্রথম হাতিয়ার হলো একটি ভাল মানের সিভি। ইন্টারভিউর আগ পর্যন্ত সিভিই আপনার প্রতিনধি হিসেবে কাজ করে। নিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপনাকে না দেখেই আপনাকে চেনে আপনার সিভি দিয়ে। তাই ভাল মানের সিভি তৈরি করা চাকরি পাওয়ার প্রথম ধাপ। তাহলে চলুন একটু জেনে নিই কীভাবে একটি সিভির মান ভাল করা যায়।

সিভি নিয়ে যে ভুল করে থাকি

সিভি নিয়ে আমরা যে ভুলটা প্রথমেই করি তা হলো, কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে আগে থেকে বানানো কোন সিভিতে নাম ঠিকানা পরিবর্তন করে সেটা দিয়েই আবেদন করে দিই। এটা মোটেও ঠিক না। ইন্টারভিউ কল না পাওয়ার এটাও একটা অন্যতম কারণ। অথচ আমরা আপসোস করে কূল পাইনা কেন ইন্টারভিউ কল পেলাম না।

আরেকটি ভুলের কথা না বললেই নয়, সেটি হলো কোন ভাবে একটা সিভি তৈরি করতে পারলেই সারা জীবন সেটি দিয়েই এপ্লাই করতে থাকি। অথচ প্রতিটি জবের ধরণ আর কাজের উপর ভিত্তি করেই প্রতিটি এপ্লাইয়ের আগেই সিভি আপডেট করা অত্যন্ত জরুরী। তাই কখনো এই ভুল করা যাবে না।

ভালো মানের সিভি কেমন হওয়া দরকার?

একটি ভাল মানের সিভিতে কিছু জিনিষ আবশ্যক তা হলো, সিভি ফরম্যাট, সিভি কন্টেন্ট, সিভির পেইজের সাইজ, সিভির পেইজের সংখ্যা, সিভির কালার বাছাইকরণ, লেখার ফন্ট, ফন্ট স্টাইল, ইন্ডেন্টেশন, সিভিতে ব্যবহার করা ছবি ইত্যাদি। উল্লিখিত সবগুলোর যথাযত ব্যবহার একটি সিভির মান অনেক অনেক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভালো সিভির ফরম্যাট কেমন হওয়া দরকার?

  • ‘A4’ সাইজের পেইজ ব্যবহার করুন।
  • অধিকাংশ চাকরির জন্য ১ অথবা ২ পেইজের সিভি বানানো যথেষ্ট।
  • ফন্ট বাচাইয়ে সতর্ক হউন। যেমন ‘Arial’, ‘Times New Roman’ বা ‘Calibri’ ফন্টে লিখুন। কোনাভাবেই স্টাইলিষ্ট ফন্ট ব্যবহার করা যাবেনা।
  • ফন্টের সাইজ ১১/১২ বেছে নিন।
  • ১/২ ধরনের ফন্ট কালারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুন।
  • সিভির সাবহেডিং এর জন্য ১৪/১৬ সাইজের ফন্ট ব্যবহার করুন।
  • প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে সারাংশের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।
  • দুই লাইনের মধ্যে যথেষ্ট স্পেসিং বজায় রাখুন।
  • বিশেষ কোন দরকার ছাড়া সিভির ডিজাইনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসা থেকে বিরত থাকুন। নিয়োগদাতার কাছে ডিজাইন দৃষ্টিকটু লাগলে লাভের চেয়া ক্ষতি বেশি হবার সম্ভাবনা বেশি।

চাকরির ধরণ বুঝেই সিভি লেখা প্রয়োজন

দক্ষতাভিত্তিক সিভিঃ যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, তার সাথে সম্পর্কিত দক্ষতাগুলোর উপর জোর দিয়ে সিভি লিখতে হবে। শিক্ষার্থী ও সদ্য গ্র্যাজুয়েট হয়ে থাকলে বা এক ক্যারিয়ার থেকে অন্য ক্যারিয়ারে যেতে হলে এ ধরনের সিভি প্রযোজ্য।

কাজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক সিভিঃ বর্তমান চাকরি থেকে সিনিয়র কোন পদের চাকরিতে আবেদন করলে এ ধরনের সিভি লিখুন।

যেসব চাকরিতে কাজের নমুনা বা পোর্টফোলিও থাকা গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সিভি দরকার।

কী দায়িত্ব পালন করেছেন, তার বিবরণ দেয়া এ সিভির উদ্দেশ্য নয়। বরং আপনার কাজ কোন ধরনের সাফল্য পেয়েছে বা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করেছে, তা উপস্থাপন করুন। বুঝাতে চেষ্টা করুন আপনার কারণে প্রতিষ্ঠানের কোন ধরণের গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। আগে কী ছিল, আপনি কি যোগ করেছেন, এসব।

সিভি লেখার সময় যে বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে

সিভিতে কোন ধরণের ভুল থাকা যাবেনা। সেটা হোক তথ্যগত, ভাষাগত অথবা বানানে ভুল। সিভিতে ভুল থাকলে প্রথমেই একটা নেগেটিভ ইম্প্রেশন তৈরি হয়ে যায় যা পরবর্তিতে কাটিয়ে উঠা অনেক কঠিন। অনেক সময় সম্ভবও হয়না। তাই নির্ভুল ভাষা ও বানান নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিন।

আপনি যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, সে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত জব ডেশক্রিপশন অনুযায়ী সিভিতে পরিবর্তন আনুন।

যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, সে প্রতিষ্ঠানের কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ট্রেনিং সিভিতে উল্লেখ করুন।

আপনার সিভির উপর ইন্টারভিউর সময় প্রশ্ন করতে পারেন। তাই প্রতিটি অংশে কী লিখছেন সে ব্যাপারে অবগত থাকুন।

যথাসম্ভব সহজ ও ছোট বাক্যের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করুন। অহেতুক কঠিন শব্দ আর জটিল ভাষার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক কোন কিছু লেখা থেকে বিরত থাকুন।

বহু চাকরিপ্রার্থী আছেন যারা সিভিটে কিছু শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার করেন। যেমনঃ “Passionate” কিংবা “Leadership”। এ ধরনের শব্দ সিভিতে না রাখা ভাল। কারণ এগুলো গতানুগতিক সকলেই ব্যবহার করে থাকে। 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে না চাইলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের লিংক সিভিতে দেয়া মোটেও সমিচীন নয়। প্রয়োজনে নিজের লিংকডইন অ্যাকাউন্টের লিংক ব্যক্তিগত তথ্যের সেকশনে রাখতে পারেন। তবে তার আগে লিংকডইন প্রোফাইল সাজিয়ে নিন।

সিভি কীভাবে ভালো করা যায়

যে ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান, তার সাথে সম্পর্কিত দক্ষতা অর্জন করুন। কোন ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে উঠলে সিভিতে সাথে সাথে আপডেট করে ফেলুন।

কোন কাজে যুক্ত থাকলে তার অগ্রগতি সম্পর্কে লিখে রাখুন। এতে করে সিভিতে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারবেন।

মাঝে মাঝে সিভি রিভিউ করুন। কোন অংশে ঘাটতি থাকলে সময় নিয়ে সে অংশ গুছিয়ে ফেলুন।

সব চাকরি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের সিভি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বরং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সিভি বানান।

ইন্টারনেটে সিভির বিভিন্ন টেমপ্লেট পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করার সময় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিন।

3 Comments

  1. Md jahed
    February 13, 2022

    আমি এস এস সি পাস টেকনাফ থেকে আমি আগে জিয়াউর রহমান ইট ভাটা ব্রিক ফিল্ড এর ম্যানেজার হিসাবে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলাম এখন বেকার আছি একটা চাকরি চাই ফোন নং 01816-467366

  2. נערות ליווי בחיפה
    March 27, 2022

    This is the right website for anybody who wants to find out about this topic. You understand a whole lot its almost tough to argue with you (not that I personally would want toÖHaHa). You definitely put a new spin on a topic which has been written about for years. Excellent stuff, just excellent!

  3. israelnightclub.com
    April 2, 2022

    Im very happy to find this web site. I want to to thank you for ones time just for this fantastic read!! I definitely appreciated every part of it and i also have you saved as a favorite to see new information in your blog.

Leave a Comment